Thursday, August 11, 2022

ভূতে ধরেছে ছাত্রীকে , অকথ্য অত্যাচার ওঝার! বাধার মুখে বিঞ্জানমঞ্চ

ভূতে ধরেছে ছাত্রীকে , অকথ্য অত্যাচার ওঝার! বাধার মুখে বিঞ্জানমঞ্চ।

একবিংশ শতাব্দীতেও কুসংস্কারের থাবা বাঁকুড়ার মেজিয়ায়। এবার সপ্তম শ্রেনীর এক ছাত্রীকে ভূতে ধরেছে দাবী তুলে তার উপর ওঝা গুনিনের চলল অকথ্য অত্যাচার। বাধা দিতে গিয়ে ওঝা, গুনিন ও পরিবারের বাধার মুখে পড়ল বিজ্ঞান মঞ্চের সদস্য। বুধবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে বাঁকুড়ার মেজিয়া থানার রামচন্দ্রপুর গ্রামের বাউরী পাড়ায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায় গতকাল কয়েকদিন থেকেই অস্বাভাবিক আচরণ করতে শুরু করে মেজিয়া থানার রামচন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা তেলেন্ডা পুরুনিয়া হাইস্কুলের সপ্তম শ্রেনীর এক ছাত্রী। ছাত্রীকে ভূতে ধরেছে এই আশঙ্কায় ছাত্রীর পরিবারের লোকজন তলব করে বেলিয়াতোড় থানার গদারডিহি এলাকার এক মহিলা ওঝাকে। বুধবার সকালে ওই মহিলা ওঝা দুই পুরুষ সহযোগীকে সঙ্গে নিয়ে রামচন্দ্রপুর গ্রামে যায়। ছাত্রীর বাড়ির অদূরে শুরু হয় পুজা অর্চনা। ভূত তাড়ানোর নামে ছাত্রীর উপর অকথ্য অত্যাচার চলতে থাকে বলেও অভিযোগ। ভূত তাড়ানোর উপকার হিসেবে সেখানে মজুত ছিল ২-৩ কেজি শুকনো লঙ্কা, ঝাঁটা, চ্যালাকাঠ ইত্যাদি।
ঘটনার খবর পেয়ে ওই গ্রামে যান পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চের কর্মী। গ্রামবাসীদের বুঝিয়ে তাঁদের ওঝার কবল থেকে মুক্ত করার চেষ্টা করা হলেও অভিযোগ ওই ওঝা, তাঁর সহযোগী এবং পরিবারের লোকজন একত্রিত ভাবে বিজ্ঞান মঞ্চের কর্মীকে লক্ষ করে ব্যাপক গালিগালাজ ও হুমকি দেয় বলে অভিযোগ। বিজ্ঞানমঞ্চের তরফে মেজিয়া থানার পুলিশকে খবর দেওয়া হলে ঘটনাস্থলে মেজিয়া থানার পুলিশ গিয়ে এবং গ্রামবাসীর সহায়তায় কোনোক্রমে বিজ্ঞান মঞ্চের কর্মীকে গ্রাম থেকে উদ্ধার করে। বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলতে চায়নি ছাত্রীর পরিবার ও গ্রামের বাসিন্দারা।

মেজিয়া বিঞ্জান কেন্দ্রের সভাপতি স্বরূপ নারায়ণ মুখার্জী জানান মেয়েটি তার স্কুলের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী। দীর্ঘদিন ধরেই তার অসুখ ছিল । তবে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান সম্পর্কে অজ্ঞতা ও গ্রাম্য কুসংস্কার এদের আষ্ঠে পৃষ্ঠে বেঁধে রেখেছে। তাই অন্ধবিশ্বাসী পরিবারের লোকজন এক মহিলা ওঝাকে বাড়িতে এনে মেয়েটির উপর নৃশংস অত্যাচার করে । খবর পেয়ে তৎক্ষণাৎ আমি ঘটনাস্থলে পৌঁছাই । ওঝা সহ পরিবারের লোকজনকে ঝাড়ফুঁক করতে বাধা দিলে তাদের মধ্যে দু-একজন আমার উপর অকথ্য ভাষায় কথা বলেন এবং হুমকি দেন । তবে মেয়েটির এখন সঠিক চিকিৎসার প্রয়োজন। এছাড়াও তিনি বলেন, আমি একা ওদের বোঝাতে পারিনি। শীঘ্রই জেলা বিজ্ঞান মঞ্চের লোকজন নিয়ে গ্রামে সচেতনতা শিবির করে মেয়েটির চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।
এবিষয়ে এলাকার বাসিন্দা প্রাক্তন বিধায়ক স্বপন বাউরি বলেন, আমি ২১ জুলাইয়ের অনুষ্ঠানের জন্য কলকাতায় রয়েছি। খবরটা আমার কানে আসতেই পুলিশ ও ব্লক প্রশাসনকে বলেছি। পুলিশ গ্রামে গিয়ে ওঝার কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। ফিরে গিয়ে আমি ওখানে কুসংস্কার বিরোধী একটি শিবির করব।

তবে এবিষয়ে মেজিয়া ব্লক সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক অনিরুদ্ধ ব্যানার্জী জানান বিষয়টি আমরা দেখছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

লেটেস্ট খবর

লেটেস্ট খবর

হাতির খবর

জঙ্গলমহল ভ্রমণ