Friday, September 30, 2022

বাঁকুড়া জেলার খাতড়া মহকুমার সারেঙ্গা ব্লক অন্তর্গত পাহাড়ী পর্যটনকেন্দ্র বড়দি পাহাড়, দেখুন কী ভাবে যাবেন কোথায় থাকবেন ?

JJM NEWS DESK : বাঁকুড়া জেলার খাতড়া মহকুমার সারেঙ্গা ব্লক অন্তর্গত এক পাহাড়ী পর্যটনকেন্দ্র বড়দি পাহাড় । বর্তমানে এই পাহাড় জঙ্গলমহলের হৃদয় । বাঁকুড়া শহর থেকে পঞ্চাশ কিলোমিটার দূরে পিড়োরগাড়ি জনপদ আর পিড়োরগাড়ি মোড় থেকে আরও দশ কিলোমিটার দূরে কংসাবতী নদীর কিনারে এক ঘন সবুজ জঙ্গলে ঢাকা ছোট্ট পাহাড় এই বড়দি পাহাড় ।

পাহাড়, জঙ্গল, নদী, ঝর্ণা আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের টানে ইঁট-কাঠ-পাথর আর কংক্রিটের জীবন ছেড়ে মানুষ এখন প্রকৃতির কোলে, পাখির কলতানে মুখরিত হতে এখন ছুটে আসছেন জঙ্গলমহলের এই বড়দি পাহাড়ে (Bardi Pahar)

পাহাড়ের (Hill) কোল ঘেঁষে আপন বেগে বয়ে চলেছে কংসাবতী নদী (Kansabati River)। আর সেই নদী সংলগ্ন এলাকায় রয়েছে একটি ঝর্ণাও। যা এলাকার মানুষের কাছে ‘কালাঝর্ণা’ নামেই পরিচিত। ছোট্ট ছুটিতে নতুন ডেস্টিনেশন ‘বড়দি পাহাড়’ রাখতেই পারেন।

বড়দি পাহাড়ের আনাচে – কানাচে রয়েছে অপরূপ সব সৌন্দর্য। জল, জঙ্গল আর প্রাকৃতিক ঝর্ণা মন ভরাতে ভ্রমণ পিপাসুদের। অ্যাডভেঞ্চার প্রিয়দের জন্যও এল তল্লাটে নানা উ

বাঁকুড়া জেলার খাতড়া মহকুমার সারেঙ্গা ব্লক অন্তর্গত পাহাড়ী পর্যটনকেন্দ্র বড়দি পাহাড়, দেখুন কী ভাবে যাবেন কোথায় থাকবেন ?
বড়দি পাহাড়ে (Bardi Pahar)

পাদান আছে। সরকারি উদ্যোগে গড়ে ওঠা ‘কটেজে’ থাকার সুব্যবস্থা রয়েছে। কটেজে বসেই দেখা যায় ঘন শালের জঙ্গল। তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করতে পারেন কংসাবতী নদীর তীরে বড়দি পাহাড়ে রাতের নিঃস্তব্ধতা। উপরি পাওনা হিসেবে ঘন শাল জঙ্গলের ভিতর থেকে ভেসে আসা রাতের টাটকা বাতাস।

প্রকৃতি উদার হস্তে তার বৈচিত্র্য দান করেছেন বাঁকুড়া জেলা (Bankura) কে। ছোটোনাগপুর মালভূমির অন্তর্গত বাঁকুড়া জেলা। বাঁকুড়ার ছত্রেছত্রে ছড়িয়ে বৈচিত্র্যময় প্রকৃতি। শুশুনিয়া, বিহারিনাথ, কোড়ো, বরোঘুটু ইত্যাদি পাহাড়সমৃদ্ধ বাঁকুড়া। সমতলভূমি, মালভূমি এবং উচ্চভূমির মেলবন্ধনের এক প্রকৃষ্ট উদাহরন বাঁকুড়া। আমাদের আজকের ভ্রমণ কাহিনী সারেঙ্গা ব্লকের বড়দি পাহাড় কে নিয়েই।

 বড়দি পাহাড় যাবার রাস্তার দুপাশে নানান ধরনের গাছের জঙ্গল ও চারচালা করোগেটেড ছাদ নিয়ে গ্রামসমূহের সহাবস্থান দেখে মুগ্ধ হতেই হবে। গ্রামগুলোর কয়েকটি হল পাতাগড়া, ছোটো- আমলাতোড়া, কৃষ্ণপুর, বড়- আমলাতোড়া, ডাঙা দেউলি, জামবনি, ছোটো গোয়ালডাঙা, চুয়াডাঙ্গা আরও কত কি । বড়দি পাহাড় নেতুরপুর গ্রামপঞ্চায়েতের অন্তর্গত সম্প্রতি গড়ে তোলা এক প্রকৃতি পর্যটনস্থল । পর্যটন কেন্দ্রটিকে সাজিয়ে তোলা ও দেখভালের দায়িত্ব রয়েছে সারেঙ্গা ব্লক প্রশাসনের হাতে । জঙ্গলের দায়িত্বে বাঁকুড়া দক্ষিণ বনবিভাগের পিড়োরগাড়ি বনাঞ্চল।

বাঁকুড়া জেলার খাতড়া মহকুমার সারেঙ্গা ব্লক অন্তর্গত পাহাড়ী পর্যটনকেন্দ্র বড়দি পাহাড়, দেখুন কী ভাবে যাবেন কোথায় থাকবেন ?
কংসাবতী ক্যানেল ব্রীজ

পিড়োরগাড়ি মোড় ছাড়িয়ে রাইপুরমুখী সড়কের দিকে মাত্র পাঁচশো মিটার এগিয়ে গেলেই মুকুটমণিপুর থেকে আসা কংসাবতী ক্যানেল ব্রীজ । ক্যানেল ব্রীজ পেরিয়ে ডান হাতে ঘুরে খাতড়া যাওয়ার রাস্তা আরও দশ কিলোমিটার রাস্তা দূরে কংসাবতী নদীর কোলেই জঙ্গলমহলের রাণী বড়দি পাহাড় । যাওয়ার পথেই দেখা মিলবে পথ চলতি ব্যস্ত গ্রামের মানুষজনদের সঙ্গে। বেশিরভাগই সহজ-সরল আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ। কথা বলে ওখানকার সংস্কৃতির সাথে পরিচিত হতে পারেন । জোগাড় করে নিতে পারেন ভালোবাসার লিপি ।

বাঁকুড়া জেলার খাতড়া মহকুমার সারেঙ্গা ব্লক অন্তর্গত পাহাড়ী পর্যটনকেন্দ্র বড়দি পাহাড়, দেখুন কী ভাবে যাবেন কোথায় থাকবেন ?

কী আছে এখানে?

‘বড়দি পাহাড়’। পাহাড় সবুজ গাছপালায় আবৃত। চারিদিক বৃক্ষ-লতা-গুল্ম দ্বারা সমৃদ্ধ। এখানে যেমন পাবেন সমতলভূমির বৃক্ষ, মালভূমির গাছপালা, মরুভূমির ক্যাকটাস জাতীয় উদ্ভিদ, আছে খেজুর, শাল, কুল, কাঁটা প্রভৃতি। পাহাড় ছোটো, তাও পাহাড়ের যাবতীয় বৈশিষ্ট্য নজরে পড়বে আপনার। পাহাড়ের পিছনেই আছে কংসাবতী। কংসাবতীর অপরূপ রূপ দু চোখ ভোরে দেখতে পাবেন। আয়নার মত স্বচ্ছ জলে গা না ডুবিয়ে সন্তুষ্ট হবেন না আপনি।

নদী অতিক্রম করলে অপর পাড়ে পাবেন ইন্দ্রঝোড় গ্রাম। নদীর পাড় বেয়ে তৈরি হয়েছে ঢালাই রাস্তা, গিয়ে শেষ হয়েছে একটা পার্কে। পার্কের ওপর থেকে নদীর দর্শন এক অভূতপূর্ব নান্দনিক অনুভূতি জাগাবে আপনার মধ্যে। আরো অনেক কিছুই আছে দক্ষিণ বাঁকুড়ার সারেঙ্গা ব্লকের বড়দি, কালাপাথর, ইন্দ্রঝোড় গ্রাম পরিবেষ্টিত এই স্থানটিতে।

 এই নির্জনতা মর্মস্পর্শী বেদনা নাশের নির্জনতা । এই নির্জনতা মনের আগুন নেভানোর নির্জনতা । এই নির্জনতা মনের আনন্দ ও সুস্থতার নির্জনতা। সুন্দরী বড়দি পাহাড় সংলগ্ন কালাপাথর গ্রাম । এই গ্রামের অল্প দূরেই রয়েছে পাহাড়ি ঝর্ণা ‘কালাঝোরা’ । দেখলে প্রাণ-মন জুড়িয়ে যাবেই । যাঁরা পলাশ-শিমুল ভালোবাসেন কিংবা খোঁজেন, তাঁরা চলে যান সুন্দরী বড়দির কোলে । রাঙিয়ে নিন বাসন্তী পলাশে-শিমুলে । অবগাহন করুন কংসাবতীর স্বচ্ছ নীল জলে।

সপরিবারে পা ঝুলিয়ে বসবার আনন্দই আলাদা । সুন্দরী বড়দি পাহাড়ের পাদদেশে সম্প্রতি নির্মিত হয়েছে অত্যাধুনিক ঝাঁ চকচকে রঙীন কটেজ । রাত্রিযাপন করবো ভাবলে সারেঙ্গা ব্লক অফিস থেকে থাকার অনুমতি নিয়ে নিতে পারেন

বাঁকুড়া জেলার খাতড়া মহকুমার সারেঙ্গা ব্লক অন্তর্গত পাহাড়ী পর্যটনকেন্দ্র বড়দি পাহাড়, দেখুন কী ভাবে যাবেন কোথায় থাকবেন ?

কীভাবে যাবেন?

বাঁকুড়া থেকে – বাঁকুড়া থেকে পিররগাড়ি ৪৯.৯ কিলোমিটার।

বাঁকুড়া – ধলডাং – তালডাংরা – সিমলাপাল – পিরর গাড়ি মোড়- বড়দি পাহাড়

বিষ্ণুপুর থেকে – বিষ্ণুপুর থেকে পিররগাড়ি মোড় ৪৪.৯ কিলোমিটার।

বিষ্ণুপুর – ছাগুলিয়া – তালডাংরা – সিমলাপাল – পিররগাড়ি মোড়-ব

গড়বেতা – বিক্রমপুর – পরিরগাড়ি মোড়- বড়দি পাহাড়

ওখান থেকে গাড়িতে এসে কয়েক ঘন্টায় সব দেখে নেওয়া যায় । জঙ্গলমহল সুন্দরী আসতে হলে ট্রেনে বা বাসে বাঁকুড়া বা ঝাড়গ্রাম দু’দিক হয়েই আসতে পারেন ।

পুরুলিয়া দিয়ে এলে প্রথম খাতড়া দিয়ে কাঁকড়াদাঁড়া-কুঁকড়াকোন্দর হয়ে আসা যায় । ঝাড়গ্রাম হয়ে এলে রাইপুর বা পিড়োরগাড়িতে নেমে গাড়ি ভাড়া নিয়ে ঘুরে নিতে পারেন জায়গাটা । চন্দ্রকোণা রোড-সারেঙ্গা হয়ে এলে সারেঙ্গা বা পিড়োরগাড়িতে নেমে ভাড়া গাড়ি নিয়ে সফর করুন । বিষ্ণুপুর থেকে এসেও সারাদিন প্রকৃতির অনাবিল আনন্দ নিয়ে আবার বিষ্ণুপুরে ফিরে যাওয়াও যায়।

এখান থেকে পুরুলিয়া জেলার অযোধ্যা পাহাড়ের দূরত্ব ১৩২ কিলোমিটার । ঝিলিমিলির জঙ্গল ৩৫ কিলোমিটার । মুকুটমণিপুর ৩২ কিলোমিটার ।

বড়দি পাহাড়ে থাকার জন্য নিচের দেওয়া লিঙ্কে ক্লিক করে বিস্তারিত দেখুন  –

এখানে দেখুনhttps://www.bankuratourism.com/bardi-pahar/

বাঁকুড়া জেলার খাতড়া মহকুমার সারেঙ্গা ব্লক অন্তর্গত পাহাড়ী পর্যটনকেন্দ্র বড়দি পাহাড়, দেখুন কী ভাবে যাবেন কোথায় থাকবেন ?

বড়দিতে না থাকতে চাইলে :

 বড়দি পাহাড় সংলগ্ন কোনো থাকার লজ বা হোটেল  । থাকতে হলে আপনাকে এখান থেকে বত্রিশ কিলোমিটার দূরের মুকুটমণিপুরই শ্রেয় । মুকুটমণিপুরে বিভিন্ন দাম ও মানের লজ, হোটেল, বিশ্রামাগার, যুব আবাস রয়েছে । স্পট বুকিংয়ে  হবে । রাইপুরে প্রচুর খাবার হোটেল আছে । পিড়োরগাড়িতে রয়েছে ‘অন্নপূর্ণা হোটেল’ । দাদুর হোটেল বলেই সবাই চেনেন । মাত্র ষাট টাকায় দেশী মুরগির মাংসের ঝোল দিয়ে খাওয়ার অভিজ্ঞতা জীবনে ভুলতে পারবেন না ।

সারেঙ্গা বিডিও অফিসের ফোন নম্বর ০৩২৪৩-২৬৯২৪৩ এবং পিড়োরগাড়ি ফরেস্ট রেঞ্জ অফিসের ফোন নম্বর ০৩২৪৩-২৫৯২৩৩ ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

লেটেস্ট খবর

লেটেস্ট খবর

হাতির খবর

জঙ্গলমহল ভ্রমণ