Saturday, July 2, 2022

স্বাধীনতা সংগ্রামী ভগবান বিরসা মুন্ডার জন্মবার্ষিকী পালন করা হলো বান্দোয়ান বাসস্ট্যান্ডে

পূর্ণচন্দ্র রক্ষিত :   বিরসা মুন্ডা (১৫ নভেম্বর ১৮৭৫ – ৯ জুন, ১৯০০) ছিলেন ভারতের রাঁচি অঞ্চলের একজন মুন্ডা আদিবাসী এবং সমাজ সংস্কারক। তৎকালীন ব্রিটিশ শাসকদের অত্যাচার-অবিচারের ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি আদিবাসী মুন্ডাদের সংগঠিত করে মুন্ডা বিদ্রোহের সূচনা করেন। বিদ্রোহীদের কাছে তিনি বিরসা ভগবান নামে পরিচিত ছিলেন।

আজ  স্বাধীনতা সংগ্রামী ভগবান বিরসা মুন্ডার জন্মবার্ষিকী পালন করা হলো বান্দোয়ান বাসস্ট্যান্ডে ।ধরতী আবা বিরসা মুন্ডার জন্মবার্ষিকী পালন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এলাকার জনপ্রিয় বিধায়ক শ্রী রাজীব লোচন সরেন মহাশয় , বিশিষ্ট লেখক ও সাহিত্যিক কলেন্দ্রনাথ মান্ডি মহাশয়, বান্দোয়ান ব্লক  তৃণমূল যুব কংগ্রেস  সভাপতি পার্থজিৎ মাহাত সহ ভূমিজ মুন্ডা সমাজের  নেতৃত্ববর্গ ও এলাকার মানুষ জন । উল্লেখ্য বান্দোয়ান বাসস্ট্যান্ডের নাম বান্দোয়ান বিরসা মুন্ডা বাসস্ট্যান্ড আই বান্দোয়ান বাসস্ট্যান্ডে এই মূর্তি উপস্থিত ছিলেন বান্দোয়ান বিধানসভার বিধায়ক রাজীব লোচন সরেন ।

যে বন আর ভূমির ওপর আদিবাসী মানুষদের জন্মগত অধিকার বিদেশি সরকার তা কেড়ে নিয়ে তাদের নিঃস্ব করেছে। অন্যদিকে আদবাসীদের দারিদ্রতার সুযোগ নিয়ে মিশনারিরা তাদের ধর্মান্তরিত করে। এর ওপর আছে দিকুদের অত্যাচার। নিজদের বনভূমে পরবাসী আদিবাসীরা যে তাদের হাজার বছরের ধর্ম ও সংস্কৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন; এ কথা মাত্র ২০ বছরের তরুণ বিরসা প্রথম উপলব্ধি করেছিলেন। কেবল তাই নয় তিনি এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়ে উঠলেন।

স্বাধীনতা সংগ্রামী ভগবান বিরসা মুন্ডার জন্মবার্ষিকী পালন করা হলো বান্দোয়ান বাসস্ট্যান্ডে
বিরসার ধর্ম, হাজার হাজার মুন্ডাদের মুখে ধরতি আবা বা জগত পিতা বিরসার জয়ধ্বনি শুনে ব্রিটিশরা আগে ভাগেই বিদ্রোহের আঁচ অনুভব করল। তাঁরা বুঝতে পারল; যেভাবেই হোক বিরসাকে জব্দ করতে হবে। তাঁর নেতৃত্বেই আদিবাসী মানুষদের মধ্যে নতুন করে বন আর ভূমি নিয়ে অধিকার বোধ দানা বাঁধছে। কিছুদিনের মধ্যেই ব্রিটিশ সরকার পুরনো বন আইঙ্কে ছোটনাগপুর জঙ্গলে প্রয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিল।
এই খবর মুন্ডাদের মধ্যে ছড়িয়ে যেতেই তাঁরা বিরসার নেতৃত্বে ফুঁসে ওঠে। পাহাড় আর জঙ্গলের ওঁরাও, মুন্ডা-সহ আদিবাসীরা বিদেশী সরকারের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠে। এরকমই একটা সময়ের অপেক্ষা করছিল ব্রিটিশ সরকার। উসকানি আর বিদ্রোহে মদত দেওয়ার অভিযোগে তাঁরা বিরসাকে বন্দি করে দু’বছর আটকে রাখে। তবে থিতিয়ে যায় না সেই বিদ্রোহ। জেল থেকে বেরিয়ে বিরসা ফের মুন্ডা ও অন্যান্য আদিবাসীদের নিয়ে ঝাপিয়ে পরে উলগুলান বা স্বাধীনতা যুদ্ধে। ব্রিটিশদের আধুনিক অস্ত্রের সামনে বিরসার যুদ্ধ সেদিন পরাজিত হয়েছিল ঠিকই কিন্তু আদিবাসীদের মনে বিরসাই বন আর ভূমির অধিকার বোধ জাগিয়ে দিয়েছিল। সেই অধিকার কি তাঁরা স্বাধীন দেশেও পেয়েছে? এ নিয়ে বিতর্ক থাকলেও এখনও খাদ্য আর শিক্ষা দেওয়ার লোভ দেখিয়ে তাদের ধর্মান্তরিত করা হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

লেটেস্ট খবর

লেটেস্ট খবর

হাতির খবর

জঙ্গলমহল ভ্রমণ